নিজস্ব প্রতিবেদক :
কক্সবাজারে আদালত প্রাঙ্গনে গোলাগুলি ঘটনায় দ্রুত বিচার ও অস্ত্র আইনে পৃথক ২ টি মামলা হয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানায় সোমবার সকালে মামলা দুইটি দায়ের করা হয়। যার একটি বাদি ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা লিয়াকত আলী। এই মামলারটিতে পুলিশের হাতে গ্রেফতার জিয়াউল হক জিকুকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত রাখা হয়েছে ৫-৬ জন। এটি দ্রুতবিচার আইনে লিপিবদ্ধ হয়েছে।
অপর মামলাটি অস্ত্র আইনে দায়ের করেছে পুলিশ। কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই মো. রুহুল আমিন বাদি হয়ে দায়ের করা মামলারও প্রধান আসামি পুলিশের হাতে গ্রেফতার জিয়াউল হক জিকু। এ মামলার এজাহারে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে কয়েকজনকে অজ্ঞাত দেখানো হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক-তদন্ত হিমেল রায় মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, মামলাটিতে পৃথকভাবে ১ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আদালতে রিমান্ড শুনানী না করে আসামিদের কারাগারে পাঠিয়েছে। রিমান্ড শুনানী পরে ধার্য্য করা হবে বলে জানিয়েছে। এ মামলায় অপরাপর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে অভিযান চালাচ্ছে।
মামলার প্রাপ্ত এজাহার মতে. লিয়াকত আলী বাদি হয়ে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি পুলিশের হাতে গ্রেফতার জিয়াউল হক জিকু কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার কালিরছড়া এলাকার আবদুল গণির ছেলে। মামলার অপর ৫ আসামি বাদির নিজ এলাকা লিংকরোডের । এরা হলেন, মৃত আশরাফুজ্জামানের ছেলে মাহামুদুল হক, মৃত লোকমান হাকিমের ছেলে আবদুল খালেক, মৃত আশরাফুজ্জামানের ছেলে যথাক্রমে সাহাবউদ্দিন, শামশুউদ্দিন ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার এজাহারে বাদি উল্লেখ করেছে, অভিযুক্ত নানা অপকর্ম, অপরাধের প্রতিবাদ করায় তাকে খুন করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই গুলি বর্ষণের ঘটনা সংঘটিত করেছে।
এসআই মো. রুহুল আমিন বাদি হয়ে দায়ের করা অস্ত্র মামলার প্রধান আসামি ছাড়া অপরাপর আসামিরা হলেন, লিংক রোড এলাকার আকবর আহমদ মেম্বারের ছেলে মোহাম্মদ জাহেদ (লিয়াকত আলীর ভাই), একই এলাকার মোহাম্মদ আবদুল্লাহর ছেলে মো. মেহেদী (লিয়াকত আলীর ভাগিনা), আকবর আহমদ মেম্বারের ছেলে শামশুল আলম বাপ্পী (লিয়াকত আলীর ভাই), রামুর গর্জনিয়া এলাকার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে রহিম, একই এলাকার ছৈয়দ হোসেনের ছেলে গিয়াস উদ্দিন, আবদুর রহমানের ছেলে দেলোয়ার হোসেন।
মামলার এজাহারে ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী, ভিডিও চিত্রে এদের হাতে অস্ত্র থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে উল্লেখ রয়েছে।
রবিবার সকালে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গনে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার সহযোগীদের নিয়ে মামলায় হাজিরা দিতে এলে তাকে গুলি করে একদল দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় লিয়াকত আলী ও তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন আহত হন। লিয়াকত আলী প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও মঈন উদ্দিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার সময় হামলা করতে আসা এবং আহত ব্যক্তির সাথে থাকা উভয় জনের হাতে অস্ত্র ছিল। এমনকি অস্ত্র ছিল লিয়াকত আলীর ভাইয়ের হাতেও।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, রবিবার সকালে গুলির ঘটনাটি লিয়াকত আলী মেম্বার ও খালেক বাহিনীর মধ্যে মামলার বিরোধকে কেন্দ্র করে বলে চাউর হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় এই দুই গ্রুপ ছাড়াও তৃতীয় একটি পক্ষের যোগসুত্র মিলেছে। যেখানে রামুর গর্জনিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান সংক্রান্ত বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
গরু পাচার, মাদক চোরাচালান সম্পর্কিত কিনা-এমন প্রশ্ন করা হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, এই ধরনের কিছু একটা হতে পারে।
তিনি বলেন, ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
