সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ, দমন ও ওই অপরাধের বিচার ও আনুসঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রনয়নকল্পে সাইবার সুরক্ষা আইন,২০২৬ নামে একটি আইন ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে গৃহীত হয়ে রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে আইনটি সর্বসাধারণের অবগতির জন্য বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে। আবার ০১ জুলাই,২০২৬ তারিখ সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ নামে সংসদে আর একটি আইন পাশ করে সাইবার সুরক্ষা আইনের ২০ ধারাটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
মানচিত্র দেখুন
আমার দীর্ঘ প্রায় চার যুগ উকালতি জীবনে এই নতুন আইনের ২২/২৪(১)(ক)/২৭ ধারার প্রথম একটি ফৌজদারী মিচ মামলা কক্সবাজার দায়রা জজ আদালতে হাজতী আসামী স্কুল শিক্ষক মুহাম্মদ ওসমান গণির পক্ষে শুনানী করার সুযোগ হয়েছে। সেনাবাহিনীতে কর্মরত সার্জেন্ট মুহাম্মদ আবুল হোসেনের এজাহারের প্রেক্ষিতে উখিয়া থানার মামলা নং ২৫,তারিখ ০৬/০৯/২০২৬,জি,আর ৫৬০/২০২৬(উখিয়া) রুজু করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা এজাহারনামীয় একমাত্র আসামীকে বাড়ীতে গিয়ে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে তিনি মামলা সম্পর্কে জ্ঞাত হয়ে আইনমান্যকারী নাগরিক হিসেবে ২৯/০৯/২৬ তারিখ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে জামিনাবেদন নামজ্ঞুর করে তাকে হাজতে প্রেরণ করা হলে হাজতী আসামীর পক্ষে জামিনের প্রার্থনা করে দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারী মিচ মামলা নং ৪২৮১/২০২৬ দায়ের করা হলে নিম্ন আদালতের নথী তলব করে গত ০৪/১১/২৬ তারিখ সংশ্লিষ্ট পক্ষদের শুনানী করে বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালত জামিন মজ্ঞুর করেন। মামলার বাদীর অভিযোগ হল তিনি সৈয়দপুর সেনানিবাসে চাকুরীরত থাকা কালে তার চাকুরীর বেতন ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি এর সেলারী/চাকুরী হিসাব নম্বরে জমা হয় এবং তিনি নিজে উক্ত হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন ও লেনদেন করে থাকেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম আপডেট করার নোটিফিকেশন আসলে স্বাভাবিক নিয়মে তিনি আপডেট প্রদান করে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি মোবাইল ফোনে সংযুক্ত ট্রাস্ট মানি অ্যাপস চালু করে তার ব্যাংকে হিসাবের ব্যালেন্স পরীক্ষা করে দেখতে পান তার ব্যাংক হিসাবে মাত্র ১,১৯৮.৯৩/- টাকা অবশিষ্ট আছে। উক্ত হিসাব থেকে তার অজান্তে, অনুমতি ছাড়া ৩,২১,৯৯৭/- টাকা ইলেকট্রনিক/ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্থানান্তর/উত্তোলন করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে জানতে পারেন তার হিসাব থেকে চার দফে উক্ত টাকা কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানাধীন কোটবাজারস্থ ব্র্যাক ব্যাংকের সাব-ব্যাঞ্চ এ ইলেকট্রনিক/ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে তার অনুমতি ব্যতীত আসামী মুহাম্মদ ওসমান গণির হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে আসামীর নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে এজাহার দায়ের করেন। অপরপক্ষে আসামীর বক্তব্য হল, তিনি একটি ব্র্যাক এনজিও সংস্থার ন্যাশনাল শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন এবং তার মাসিক বেতন ১৫,৫০০/- টাকা। তিনি মোবাইল ফোনে ফেইসবুক ব্যবহারের সময় অসাবধানতাবশতঃ ’অ্যাওবেট’ নামক অ্যাপ ডাউনলোড হয়ে যায় ও হ্যাক হয়ে যায়। পরে জানতে পারেন তার ব্র্যাক ব্যাংক কোটবাজার শাখার হিসাবে চার দফায় অনেক টাকা তার অজান্তে জমা হয়ে যায় ও পরে আবার অজ্ঞাত ব্যাংক একাউন্টে চলে যায়। তিনি সে টাকা উত্তোলন করেন নাই, দাবী করেন না জানিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করেন। সম্পূর্ণ নির্দোষ হলেও অপ্রত্যাশিত মামলায় ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে এক মাস ছয় দিন হাজতবাস করার পর মাননীয় দায়রা জজ আদালত হতে জামিনে মুক্তি লাভ করেন। বাদী ও আসামী কেউও উল্লেখিত ইলেকট্রনিক/ডিজিটাল ব্যাংক লেনদেন সম্পর্কে কিছুই জানেন না। কিন্তু ইতিমধ্যে উভয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। আমি মামলার কাগজপত্র পড়ে অতকিংত হয়ে দ্রুত ব্যাংকে গিয়ে স্টেটমেন্ট নিয়ে আমার ব্যাংক একাউন্টে কোন টাকা জমা হয়েছে কিনা বা অজান্তে ইলেকট্রনিক লেনদেন হয়েছে কিনা নিশ্চিত হয়েছি। আমার তাড়াহুড়া ও অস্থিরতার কারণ জানতে চাইলে ব্যাংক কর্মকর্তা আরমানকে বলেছি কিছু না জেনেই এক স্কুল শিক্ষক হাজতবাস করছেন, এ ধরনের ইলেকট্রনিক/ডিজিটাল লেনদেনের কারণে কোন ব্যাংক কর্মকর্তা ভবিষ্যতে হাজতে যাবেন কিনা তা কেবল সৃষ্টিকর্তাই বলতে পারেন। আমাদের সকলের সতর্ক থাকা উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হ্যাকাররা শত শত কোটি টাকা নিয়ে গেছে বলে মিডিয়ায় মাধ্যমে জানতে পারলেও কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে কিনা সে সংবাদ পত্রিকায় দেখি নাই।
সৈকত ভ্রমণ করুন
কবি রোশনে আরা বেগম একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, একজন প্রখ্যাত আইনজীবীর স্ত্রী। একজন ব্যারিষ্টার কন্যা ও দুই জন ডাক্তার কন্যার মা এবং একজন পিএইচডি ডিগ্রীধারী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের গর্বিত মা। কক্সবাজারের সুপরিচিত, সম্মানিত একজন রত্নগর্ভা মা। ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কক্সবাজার শাখায় তাঁর একটি ব্যাংক হিসাব আছে যার নম্বর ৭০১৭০৩৫১০০০৪৫১ । এই হিসাবে একজনকে চেক দিয়ে তা ডিসঅনার হওয়ায় তিনি অপমানিত ও মর্মাহত হয়ে ব্যাংকে এসে স্ট্যাটমেন্ট নিয়ে জানতে পারেন তাঁর হিসাব থেকে তাঁর অজ্ঞাতে,বিনা অনুমতিতে ২৪ ও ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখ ছয় দফায় মোট ১,০৪,৫৪৯/- টাকা সোনিয়া সুলতানা নামীয় ব্যাংক হিসাব নং ০৫০৩১৪১০০০০০০৪৫ প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি,এসএমই মৌচাক শাখা,ঢাকা, বরাবরে স্থানান্তর হয়েছে। সোনিয়া সুলতানার ঠিকানাঃ ২৯০-৭৯/এফ/১০,পূর্ব রামপুরা,ঢাকা। মোবাইল নং ০১৯১১২২৯৭১৫। বিগত ২৯ সেপ্টেম্বর,২০২৬ অফিসার ইনচার্জ,কক্সবাজার সদর থানা বরাবরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের নিবেদন করে তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তা সাধারণ ডাইরী নং ২৩৫৪ তারিখ ২৯/৯/২০২৬ হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলে জানা যায়। একই ধরনের একটি ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির অভিযোগ সাইবার সুরক্ষা আইনে এজাহার হিসেবে রুজু করে আসামী গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়েছে,মামলার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। নিয়মিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হলে তদন্তে প্রকৃত দোষী আসামীরা সনাক্ত হওয়ার, ডিজিটাল/ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবের মালিকের অনুমতি,সম্মতি ব্যতীত চুরি করে স্থানান্তর করা টাকা উদ্ধার হওয়ার ,বিচারে আসামী দোষী সাব্যস্থ হয়ে আদালতকর্তৃক দন্ডিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি মামলাই রুজু না হয় সেই সম্ভাবনা থাকে না। কবি রোশনে আরা বেগমের লিখিত অভিযোগ কেন এজাহার হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হবে না তার উত্তর কে দেবেন ?
সৈকত ভ্রমণ করুন
বাংলাদেশ ব্যাংকের শত শত কোটি টাকা ডিজিটাল/ইলেকট্রনিক মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর হয়ে গেলে তা বিগত সরকার সহ্য করেছে। হয়তঃ মহা-চুরির সাথে সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা/নেতারা জড়িত ছিল। তাই তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্ত রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় নাই। রক্ষক ভক্ষক হলে মানুষ কোথায় আশ্রয় পাবেন। নিরীহ জনগণ ব্যাংকের ইলেকট্রনিক/ডিজিটাল চুরি সহ্য করতে পারছেন না। সরকারের দায়িত্বশীল মহল অবহেলা করলে সাধারণ মানুষ ভয়ে ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে স্বাভাবিকভাবে নিরুৎসাহিত হবেন। প্রশ্ন উঠেছে, সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন করে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত করতে পেরেছে?


Leave a Reply